হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-সম্পর্কিত জ্ঞান ও মাহদাভিয়াত প্রচারের লক্ষ্যে হাওজা নিউজ এজেন্সি ‘আদর্শ সমাজের পথে’ শীর্ষক ধারাবাহিক আলোচনা প্রকাশ করছে।
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাব এবং তাঁর বিশ্বজনীন ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো—এই ঐশী আন্দোলনে নারীদের অবস্থান এবং তাঁরা কীভাবে এতে ভূমিকা পালন করবেন।
এই আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ীর দৃষ্টিতে নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কুরআনভিত্তিক কয়েকটি বক্তব্য উপস্থাপন করা হলো।
তিনি বলেন— “ইসলামে নারীর বাইআত, নারীর সম্পদের মালিকানা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত।”
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ
হে নবী! যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই মর্মে বাইআত করে যে তারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না…”
(সূরা মুমতাহিনা, আয়াত ১২)
তিনি আরও বলেন, নারীরা সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বাইআত করতেন। মহানবী (সা.) কখনো এ কথা বলেননি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেবল পুরুষদের হবে এবং নারীরা তা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করবে। বরং নারীরাও স্বতন্ত্রভাবে ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো গ্রহণ ও সমর্থনে অংশগ্রহণ করতেন।
(বহুসংখ্যক নারীর সঙ্গে সাক্ষাতে প্রদত্ত বক্তব্য, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০০)
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ
মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী পরস্পরের অভিভাবক ও সহযোগী; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে।
(সূরা তাওবা, আয়াত ৭১)
ইসলামী সমাজব্যবস্থা সংরক্ষণ, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ প্রতিরোধের দায়িত্বে নারী-পুরুষ উভয়েই সমানভাবে অংশীদার। ইসলাম এ দায়িত্ব থেকে নারীকে পৃথক করেনি; আমরাও তা করতে পারি না। ইসলামী সমাজের পরিচালনা ও অগ্রগতির দায়িত্ব নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর ন্যস্ত—প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী।
(হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নারীদের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রদত্ত বক্তব্য, ৪ জুলাই ২০০৭)
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের বহু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে নারী ও পুরুষকে সমানভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। এই গুণাবলিতে সজ্জিত না হলে সেই তাওহিদভিত্তিক সমাজ কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, যা ইসলামের আদর্শ সমাজ হিসেবে প্রত্যাশিত।
إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ... أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا
নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সিয়াম পালনকারী পুরুষ ও সিয়াম পালনকারী নারী, পবিত্রতা রক্ষাকারী পুরুষ ও নারী এবং অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণকারী পুরুষ ও নারীদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন।
(সূরা আহযাব, আয়াত ৩৫)
অতএব, মানবজাতির মুক্তিদাতা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের পথে নারীদের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আল্লাহপ্রদত্ত ঐশী দায়িত্বে তাঁদের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা যায় না।
নারীরাও পুরুষদের মতোই আল্লাহর নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট থাকবে। তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া ঐশী প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কারণেই মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষ উভয়কেই নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে সজ্জিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, কেবল সৎ ও যোগ্য মানুষেরাই পৃথিবীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী হবে।
وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ
আর আমি জাবুরে উপদেশের পর লিখে দিয়েছি যে, আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দারাই পৃথিবীর উত্তরাধিকারী হবে।
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৫)
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সমাজের নারীরাও পুরুষদের মতোই আল্লাহর লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে সাধারণ দায়িত্ব ও কর্তব্যের অংশীদার। তাঁদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখা আবশ্যক। তবে নারীদের জন্য কিছু বিশেষ ও স্বতন্ত্র ভূমিকার বিষয়ও রয়েছে, যা পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা হবে।
এই আলোচনা চলবে…
আপনার কমেন্ট